Category: Food

  • তেঁতুলতলার মিষ্টি (২৪/০৯/২০২৫)

    তেঁতুলতলার মিষ্টি (২৪/০৯/২০২৫)

    কোন জায়গায় ঘুরতে গেলে আমি চেষ্টা করি মোটামুটি সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে। আর চেষ্টা করি বিখ্যাত, ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে। যদি সম্ভব হয় ফেরার সময় পরিবারের জন্য সে খাবার নিয়েও আসি।

    ফরিদপুরের তেঁতুলতলার মিষ্টি কিন্তু খুব বিখ্যাত!

    ফরিদপুরে যাওয়ার আগেই ইন্টারনেট থেকে এখানকার মিষ্টির দোকানগুলোর ব্যাপারে একটা ধারণা নিয়ে গিয়েছিলাম। শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে শুনলাম মিষ্টির গুণগান। এক বসায় নাকি ৮-১০ টা মিষ্টি অনায়াসে খাওয়া যায়!

    প্রথম দিনের অডিশন শেষে সন্ধ্যায় শিশু একাডেমিতেই সুযোগ হয় মিষ্টি চেখে দেখার। এডিসি জেনারেল মিষ্টি এনে সবাইকে খাওয়ালেন। এগুলো স্পঞ্জ রসগোল্লা। তবে সাইজ অনেকটাই ছোট। ঢাকায় যে স্পঞ্জ রসগোল্লার সাথে আমি পরিচিত, এই মিষ্টি তার প্রায় অর্ধেক। তবে স্বাদে অতুলনীয়।

    অফিস থেকে ফিরে সার্কিট হাউসে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়লাম মিষ্টির সন্ধানে। যে এলাকায় মিষ্টির দোকানগুলো অবস্থিত সে জায়গার নাম তেঁতুলতলা। সার্কিট হাউস থেকে বেশ কাছেই।

    জায়গাটা বেশ পরিচ্ছন্ন আর সুন্দরভাবে আলোকিত। আমি এই জায়গার ছবি তুলতে ভুলে গেছি। রাতে দেখতে দারুণ লাগে। বেশ কয়েকটা দোকান আছে এখানে। তার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো দোকান হলো খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকান। এর সাথে মোল্লার মিষ্টির দোকানও ভালো। তবে সবচেয়ে পুরনো খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকানের বাহ্যিক অবস্থা বেশ জরাজীর্ণ। বাকি দোকানগুলো বেশ ঝকমকে। হয়তো এটা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি হতে পারে। সবচেয়ে পুরনো হলেও এ দোকানেই সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে।

    আমি যাই রাত প্রায় ৯ টার‍ দিকে। খোকা মিয়ার দোকান বন্ধ হবার অবস্থা। এ দোকানে আর মিষ্টি খাওয়া হলো না। মোল্লার দোকানে গিয়ে বসলাম। অর্ডার দিলাম দুইটা রসগোল্লা, দুইটা রসমালাই আর একটা চমচম এর।

    মোল্লার দোকানের মিষ্টি। রসমালাই, রসগোল্লা আর চমচম।

    রসগোল্লার স্বাদ দারুন। রসমালাই ও অসাধারণ। এখানের রসমালাই এর সাইজ বেশ বড়, কুমিল্লার রসমালাই এর চেয়ে।  চমচমটা বেশি মিষ্টি, আমার তেমন ভালো লাগে নাই।

    তেঁতুলতলায় রসগোল্লা বিক্রি হয় পিস হিসেবে। প্রতি পিস ১২ টাকা। যে কয় পিস খাবেন তার দাম দিবেন। ছোট ছোট রসগোল্লা ৮-১০ টা খাওয়া কোন ব্যাপারই না।

    আমি তেঁতুলতলায় পরদিন (২৫/০৯/২০২৫ তারিখে) সন্ধ্যায় আবার যাই। এবার খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকান খোলা, কিন্তু বেশ ভিড়। এর মধ্যে চেয়ার দখল করে অর্ডার করি মিষ্টি।

    বিখ্যাত খোকা মিয়ার দোকানের লাল রসগোল্লা। এগুলো চুলার উপর পাতিল থেকে সরাসরি প্লেটে সার্ভ করে।

    সাদা রসগোল্লা ২ টা খাওয়ার পর লাল রসগোল্লা খেলাম ২ টা। তবে লালটায় চিনির পরিমাণ বেশি। সাদাটাই খেতে ভালো। এখানে খাওয়ার সময় মজার অভিজ্ঞতা হয় আমার। চুলার উপর থেকে বড় চামচে করে একেবারে গরম রসগোল্লা ঢেলে দেয় বাটিতে। ধোঁয়া উঠা সে মিষ্টির স্বাদ কীভাবে বোঝাই !

    এভাবেই ঢেলে দেয় মিষ্টি।

    ১ কেজিতে মোটামুটি ২০ টা রসগোল্লা উঠে। আসলে বিক্রি করে তো পিস হিসেবে। আমি ঢাকায় ফেরার সময় খোকা মিয়ার দোকান থেকে ৬০ পিস (৩ কেজি) রসগোল্লা আর মোল্লার দোকান থেকে ৩ কেজি রসমালাই নিয়ে আসি।

    ফরিদপুর কেউ গেলে এই তেঁতুলতলার মিষ্টি খেতে ভুলবেন না !