সোনারগাঁওঃ প্রাচীন নগরীতে একদিন (পর্ব-২ঃ লোকশিল্প জাদুঘর, ১৬/০৫/২০২৫)

Written by

in

,

(মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এর বিশেষ ট্রেনিং ছিল গত ১২/০৫/২০২৫-২৮/০৫/২০২৫ তারিখে। এর ফাঁকে ১৬/০৫/২০২৫ তারিখ শুক্রবারে আমার এই ভ্রমণ। এখানে দ্বিতীয় পর্ব)

আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন- সোনারগাঁওঃ প্রাচীন নগরীতে একদিন (পর্ব-১ঃ বড় সর্দারবাড়ি, ১৬/০৫/২০২৫)

বড় সর্দারবাড়িতে একটু বেশি সময় কাটাই আমি। কারণ, বের হয়ে গেলে টিকেট ছাড়া আর ঢোকা যাবে না। পুকুর ঘাটে ছায়ায় একটু বসি। কল্পনা করি চার-পাঁচশ বছর আগে এই বাড়িটা কেমন ব্যস্ত থাকতো !

সেলফি তুলতে তুলতে বিরক্ত। তাই অপরিচিতদের বিরক্ত করি ছবি তুলে দেওয়ার জন্য।

বড় সর্দারবাড়ি থেকে বের হই আনুমানিক ১২ টার দিকে। মূল গেট বরাবর সোজা সামনে বিশাল ভবনটা জাদুঘর। তিনতলা এই ভবনের প্রতি তলায় বাংলার প্রাচীন এবং গ্রামীন সব নিদর্শন সাজানো। দেখবেন আর নিদর্শনের বিবরণ পড়বেন। এসি আছে, আরাম করে তিনটা ফ্লোর ঘুরে ঘুরে দেখলাম।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এর বিখ্যাত ভাস্কর্য “সংগ্রাম (The Struggle)”

একদম খাঁটি জামদানি শাড়ি।

বাংলাদেশের বিভিন্ন নৌকার মডেল।

বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র এবং প্রাচীণ নিদর্শন ।

মাটির পুতুল।

আহ, পালকি!

জাদুঘর দেখা শেষ হলে ডানদিকে কারুপল্লীর উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করি। ঘড়িতে ১ টার কাছাকাছি। প্রচন্ড গরম, সাথে পানি না থাকলে বিপদ। এখানে কয়েকটা শুকনা খাবারের স্টল আছে। একটা কেক আর একটা ফান্টা নিলাম। টিপিক্যাল বাঙ্গালি চোট্টামি এখানেও আছে, প্রতি আইটেমে দাম ৫ টাকা করে বেশি রাখছে।

কেক -ফান্টা গিলতে গিলতে হাঁটি আর আশেপাশের দৃশ্য দেখি। একটা শুকনা লেক, তার পাশে বসার জায়গা আছে, কিন্তু ফাঁকা নাই কোনটাই। ঘুরতে ঘুরতে হাজির হই মুক্তিযোদ্ধা সেতু নামে একটা ব্রিজের কাছে। এই ব্রিজটা পার হলেই অনেকটা ফাঁকা জায়গা। সবুজ ঘাসের মাঠ, পথের পাশে সারি সারি গাছ, তার পাশে শুকিয়ে থাকা একটা লেক। একটা গাছ দেখলাম এমনভাবে বেঁকে আছে যে এটার উপর ঠিক চেয়ারে বসার মতো করে আরামে বসে থাকা যায়। আমি এটার নাম দিলাম গাছ-চেয়ার (নাকি চেয়ার-গাছ ?)।

কী ? কেমন দিলাম, হ্যাঁ?

আমি এই চেয়ার-গাছে বসি। আমার সামনে সবুজ মাঠ, পেছনে লেক। লেক বরাবর একটু পরপর ঠান্ডা বাতাসের ধাক্কা। আশেপাশের গাছ থেকে বউ-কথা-কও, টুনটুনি আর কোকিল পাখির মিষ্টি ডাক। চিপিক চিপিক-টুইট টুইট-টুন টুন-কুহু কুহু। আমার মন চায় ক্লান্ত শরীর সামনের ঐ মাঠভর্তি ঘাসে এলিয়ে দিয়ে একটা ঘুম দেই।

ট্রেনিংয়ে আসার কয়েকদিন আগে থেকে প্রচন্ড দাবদাহে বাসায় ঠিকমতো ঘুম হয় নাই। ট্রেনিংয়ে আসার পরেও ঘুম কম হচ্ছে। আমি এই গরমে এমন ক্লান্তি নিয়ে কোন সাহসে যে বের হলাম আজকে !

এটা বসে একটা ছবি তোলার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু হাতে সময় কম।

এখানে আমি অনেকটা সময় বসে থাকি। হঠাৎ খেয়াল হয় যে আমার অনেক কিছু দেখা বাকি! দ্রুত বসা থেকে উঠে দাঁড়াই, হাঁটা শুরু করি। এক দোকানদারের থেকে গোয়ালদি মসজিদের লোকেশনের আইডিয়া করে নিয়েছিলাম এদিকে আসার সময়। আমি খোঁজ পেলাম সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের সমাধির। সেই দোকানদারকে আবারো জিজ্ঞেস করে কনফার্ম হলাম, সুলতান শায়িত আছেন কাছাকাছি কোথাও, ছয়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে ! এই জায়গা মিস করা যাবে না।

প্রায় দুইটা বাজে। হাতে সময় কম। কারুপল্লীর দিকে যেতে যেতে একটা নামাজের ঘর দেখে খেয়াল হলো নামাজ পড়া হয় নাই। পাশে অযুখানা আছে। নামাজের ঘরে ঢুকে দেখলাম সুন্দর, সাজানো গালিচা। সাথে একটা ঝাড়ু। ঝাড়ুর মর্ম বুঝলাম অবশ্য পরে। নামাজের ঘরের চারপাশ খোলামেলা থাকার কারণে গাছের পাতা আর ধুলা উড়ে এসে পড়ে গালিচায়। সম্ভবত নামাজের আগে পরিস্কার করার জন্য ঝাড়ু রাখা। ততক্ষণে অবশ্য আমার নামাজ শেষ আর নাকে-কপালে-হাতে ধুলা।

নাগরদোলা।

চরকি।

নামাজ শেষে ঢুকি কারুপল্লীতে। শুরুতে এক পাশে নাগরদোলা আর চরকি আছে। চড়লাম না ভয়ে, চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচের ভয়ানক দোলনার অভিজ্ঞতা মনে পড়লো। এমনিতে শরীর ক্লান্ত, মাথা ঘুরান্টি দিলে দেখবে কে ?

(….চলবে )

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *