Category: Arts

  • সোনারগাঁওঃ প্রাচীন নগরীতে একদিন (পর্ব-২ঃ লোকশিল্প জাদুঘর, ১৬/০৫/২০২৫)

    সোনারগাঁওঃ প্রাচীন নগরীতে একদিন (পর্ব-২ঃ লোকশিল্প জাদুঘর, ১৬/০৫/২০২৫)

    (মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এর বিশেষ ট্রেনিং ছিল গত ১২/০৫/২০২৫-২৮/০৫/২০২৫ তারিখে। এর ফাঁকে ১৬/০৫/২০২৫ তারিখ শুক্রবারে আমার এই ভ্রমণ। এখানে দ্বিতীয় পর্ব)

    আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন- সোনারগাঁওঃ প্রাচীন নগরীতে একদিন (পর্ব-১ঃ বড় সর্দারবাড়ি, ১৬/০৫/২০২৫)

    বড় সর্দারবাড়িতে একটু বেশি সময় কাটাই আমি। কারণ, বের হয়ে গেলে টিকেট ছাড়া আর ঢোকা যাবে না। পুকুর ঘাটে ছায়ায় একটু বসি। কল্পনা করি চার-পাঁচশ বছর আগে এই বাড়িটা কেমন ব্যস্ত থাকতো !

    সেলফি তুলতে তুলতে বিরক্ত। তাই অপরিচিতদের বিরক্ত করি ছবি তুলে দেওয়ার জন্য।

    বড় সর্দারবাড়ি থেকে বের হই আনুমানিক ১২ টার দিকে। মূল গেট বরাবর সোজা সামনে বিশাল ভবনটা জাদুঘর। তিনতলা এই ভবনের প্রতি তলায় বাংলার প্রাচীন এবং গ্রামীন সব নিদর্শন সাজানো। দেখবেন আর নিদর্শনের বিবরণ পড়বেন। এসি আছে, আরাম করে তিনটা ফ্লোর ঘুরে ঘুরে দেখলাম।

    শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এর বিখ্যাত ভাস্কর্য “সংগ্রাম (The Struggle)”

    একদম খাঁটি জামদানি শাড়ি।

    বাংলাদেশের বিভিন্ন নৌকার মডেল।

    বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র এবং প্রাচীণ নিদর্শন ।

    মাটির পুতুল।

    আহ, পালকি!

    জাদুঘর দেখা শেষ হলে ডানদিকে কারুপল্লীর উদ্দেশ্যে হাঁটা শুরু করি। ঘড়িতে ১ টার কাছাকাছি। প্রচন্ড গরম, সাথে পানি না থাকলে বিপদ। এখানে কয়েকটা শুকনা খাবারের স্টল আছে। একটা কেক আর একটা ফান্টা নিলাম। টিপিক্যাল বাঙ্গালি চোট্টামি এখানেও আছে, প্রতি আইটেমে দাম ৫ টাকা করে বেশি রাখছে।

    কেক -ফান্টা গিলতে গিলতে হাঁটি আর আশেপাশের দৃশ্য দেখি। একটা শুকনা লেক, তার পাশে বসার জায়গা আছে, কিন্তু ফাঁকা নাই কোনটাই। ঘুরতে ঘুরতে হাজির হই মুক্তিযোদ্ধা সেতু নামে একটা ব্রিজের কাছে। এই ব্রিজটা পার হলেই অনেকটা ফাঁকা জায়গা। সবুজ ঘাসের মাঠ, পথের পাশে সারি সারি গাছ, তার পাশে শুকিয়ে থাকা একটা লেক। একটা গাছ দেখলাম এমনভাবে বেঁকে আছে যে এটার উপর ঠিক চেয়ারে বসার মতো করে আরামে বসে থাকা যায়। আমি এটার নাম দিলাম গাছ-চেয়ার (নাকি চেয়ার-গাছ ?)।

    কী ? কেমন দিলাম, হ্যাঁ?

    আমি এই চেয়ার-গাছে বসি। আমার সামনে সবুজ মাঠ, পেছনে লেক। লেক বরাবর একটু পরপর ঠান্ডা বাতাসের ধাক্কা। আশেপাশের গাছ থেকে বউ-কথা-কও, টুনটুনি আর কোকিল পাখির মিষ্টি ডাক। চিপিক চিপিক-টুইট টুইট-টুন টুন-কুহু কুহু। আমার মন চায় ক্লান্ত শরীর সামনের ঐ মাঠভর্তি ঘাসে এলিয়ে দিয়ে একটা ঘুম দেই।

    ট্রেনিংয়ে আসার কয়েকদিন আগে থেকে প্রচন্ড দাবদাহে বাসায় ঠিকমতো ঘুম হয় নাই। ট্রেনিংয়ে আসার পরেও ঘুম কম হচ্ছে। আমি এই গরমে এমন ক্লান্তি নিয়ে কোন সাহসে যে বের হলাম আজকে !

    এটা বসে একটা ছবি তোলার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু হাতে সময় কম।

    এখানে আমি অনেকটা সময় বসে থাকি। হঠাৎ খেয়াল হয় যে আমার অনেক কিছু দেখা বাকি! দ্রুত বসা থেকে উঠে দাঁড়াই, হাঁটা শুরু করি। এক দোকানদারের থেকে গোয়ালদি মসজিদের লোকেশনের আইডিয়া করে নিয়েছিলাম এদিকে আসার সময়। আমি খোঁজ পেলাম সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের সমাধির। সেই দোকানদারকে আবারো জিজ্ঞেস করে কনফার্ম হলাম, সুলতান শায়িত আছেন কাছাকাছি কোথাও, ছয়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে ! এই জায়গা মিস করা যাবে না।

    প্রায় দুইটা বাজে। হাতে সময় কম। কারুপল্লীর দিকে যেতে যেতে একটা নামাজের ঘর দেখে খেয়াল হলো নামাজ পড়া হয় নাই। পাশে অযুখানা আছে। নামাজের ঘরে ঢুকে দেখলাম সুন্দর, সাজানো গালিচা। সাথে একটা ঝাড়ু। ঝাড়ুর মর্ম বুঝলাম অবশ্য পরে। নামাজের ঘরের চারপাশ খোলামেলা থাকার কারণে গাছের পাতা আর ধুলা উড়ে এসে পড়ে গালিচায়। সম্ভবত নামাজের আগে পরিস্কার করার জন্য ঝাড়ু রাখা। ততক্ষণে অবশ্য আমার নামাজ শেষ আর নাকে-কপালে-হাতে ধুলা।

    নাগরদোলা।

    চরকি।

    নামাজ শেষে ঢুকি কারুপল্লীতে। শুরুতে এক পাশে নাগরদোলা আর চরকি আছে। চড়লাম না ভয়ে, চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচের ভয়ানক দোলনার অভিজ্ঞতা মনে পড়লো। এমনিতে শরীর ক্লান্ত, মাথা ঘুরান্টি দিলে দেখবে কে ?

    (….চলবে )

  • সোনারগাঁওঃ প্রাচীন নগরীতে একদিন (পর্ব-১ঃ বড় সর্দারবাড়ি, ১৬/০৫/২০২৫)

    সোনারগাঁওঃ প্রাচীন নগরীতে একদিন (পর্ব-১ঃ বড় সর্দারবাড়ি, ১৬/০৫/২০২৫)

    (মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এর বিশেষ ট্রেনিং ছিল গত ১২/০৫/২০২৫-২৮/০৫/২০২৫ তারিখে। এর ফাঁকে ১৬/০৫/২০২৫ তারিখ শুক্রবারে আমার এই ভ্রমণ। লম্বা লেখাকে আমি ছোট পর্ব আকারে দিলাম। এখানে প্রথম পর্ব)

    শুক্রবার সকালে নাস্তা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার জন্য। কোর্সের কারোর মধ্যে যেন আগ্রহ নাই, একটা ছন্নছাড়া ভাব। আমার হোমওয়ার্ক করেই রাখছি। নাস্তা শেষে আস্তে-ধীরে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে গেলাম রিসেপশনে বসা লোকটার দিকে। জিগাইলাম, সোনারগাঁ কোন দিকে ? সে যা বললো তাতে বুঝলাম গেট দিয়া বাইর হইয়া রাস্তা পার হইলে বাস আছে। ব্যস, আমার জন্য এইটুকু জানাই যথেষ্ঠ।

    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজে আসছি তিন সপ্তাহের ট্রেনিংয়ে। এখানে এসেই আমার স্বভাবমতো শুরু করলাম “ভাঙ্গা বাড়ি” i mean জমিদার বাড়ি বা নবাব বাড়ি টাইপের পুরাতন বাড়ি খোঁজা। অনেক ঘাটাঘাটি করে যা পেলাম, গজারিয়ার ফুলদী নামক স্থানে সাহেব বাড়ি নামে একটা কিছু আছে, কিন্তু এই সাহেব বাড়ির বিষয়ে এখানের কেউই ধারণা দিতে পারলো না, তার উপর ম্যাপে দেখলাম ফুলদী জায়গাটা ভালোই দূরে।

    রুম বয় বা আশেপাশে যাকেই জিজ্ঞেস করি সবাই সাজেস্ট করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যেতে। গজারিয়া থেকে অবশ্য সোনারগাঁ বেশ কাছে, মাত্র ১৫ কিমি এর মতো। সোনারগাঁয়ে আমি এর আগে একবার গেছি, ২০০৫/২০০৬ এর দিকে, কলেজ এর স্টাডি ট্যুরে। কিন্তু কেন জানি এবার মন তেমন টানছিল না সোনারগাঁয়ে যেতে।

    রুম থেকে বের হইছিলাম সকাল সাড়ে নয়টায়, আর ফিরছি রাত আটটায়। অর্থাৎ আমার এই সলো ঘোরাঘুরি প্রায় সাড়ে ১০ ঘন্টা। ঐতিহাসিক কোন জায়গা দেখার জন্য আমি কেমন বেপরোয়া হতে পারি সেইটা আমার তাজিকিস্তানের বন্ধু হিমুইদ্দিন এর চেয়ে আর কে ভালো জানে! পরিশিষ্ট-১ এ সংক্ষেপে উল্লেখ করলাম ঘটনাটা।

    সোনারগাঁ একটা ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ জায়গা এটা সবাই জানে। কিন্তু লোকশিল্প জাদুঘর আর পানাম নগরী সবাই দেখে, শুধু এই দুইটা স্পটে আকর্ষন পাচ্ছিলাম না। তাই প্ল্যান করলাম আশেপাশে আরো কিছু থাকলে তা দেখতে হবে।

    (এখানে আগেই বলে রাখি, শেষ পর্যন্ত যে জায়গাগুলা কভার করেছি আমার ট্যুরে তা হলোঃ

    ১। লোকশিল্প জাদুঘর (বড় সর্দার বাড়ি, জাদুঘর, কারুপল্লী)

    ২। পানাম নগর

    ৩। গোয়ালদি মসজিদ (গায়েবি মসজিদ)

    ৪। পাঁচ পীরের দরগাহ

    ৫। সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ এর সমাধি (কালা দরগাহ)

    অধিকাংশ মানুষ প্রথম দুইটা জায়গা দেখে ফিরে আসে। বাকিগুলো দেখতে হইলে একটু কষ্ট করতে হবে, সময় ম্যানেজ করতে হবে এবং আগ্রহ থাকতে হবে।)

    সকালে সাড়ে ৯ টায় আমি বাসে উঠলাম। পাখির মোড় থেকে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা পর্যন্ত মিনিবাস যায়, ৪০ টাকা ভাড়া। সময় লাগছে প্রায় ৪৫ মিনিট। এইবার রাস্তাটা পার হইয়া সাইড রাস্তা দিয়া রিজার্ভ অটো নিলাম ৪০ টাকায়, সোনারগাঁ জাদুঘরে যাওয়ার জন্য । শেয়ারে গেলে ২০ টাকা নিবে। কিন্তু বাসে থাকতেই মেজাজ খারাপ করা বৃষ্টি নেমে পথ-ঘাট কাদা বানাইয়া দিছে।

    লোকশিল্প জাদুঘরের গেইটে টিকেট কাটলাম। এন্ট্রি ফি ৫০ টাকা, আর বড় সর্দার বাড়ি দেখতে চাইলে আরো ১০০ টাকার টিকেট লাগবে। আমি ১৫০ টাকা দিয়ে নিলাম দুইটা ভেনুর টিকেট। ঢুকতে ঢুকতে ১১ টার কাছাকাছি বেজে গেছে।

    গেট দিয়ে ঢুকতেই যে রাজকীয় বাড়িটা চোখে পড়ে সেইটা বড় সর্দারবাড়ি। বাড়ির সামনের পুকুরের পাশ দিয়ে গিয়ে দূর থেকে দাঁড়িয়ে বোঝা যায় এই বাড়ির সৌন্দর্য। চলে গেলাম বড় সর্দারবাড়িতে ঢোকার গেইটে।

    বড় সর্দারবাড়ির সামনের অংশ ।

    বড় সর্দারবাড়িটা আসলে মোঘল আমলে বানানো একটা রাজবাড়ি বলা যায়। কলেজে থাকতে যখন আসছিলাম তখন সম্ভবত এটাই ছিল জাদুঘর। পরে জাদুঘরটা আলাদা ভবনে স্থানান্তর করা হয়। বড় সর্দারবাড়ির সংস্কার শেষে তা এখন অপূর্ব চেহারায় ফিরেছে। এটার ভিতরে অনেক নাটক, মিউজিক ভিডিওর শুটিং হয়েছে।

    পুকুর ঘাটের ভাষ্কর্য।

    এই বাড়ির দুইটা অংশ, সামনের অংশের উঠান পার হয়ে পেছনের অংশের উঠানে যেতে হয়। বাড়ির সামনে সান বাধানো পুকুর ঘাট, ভিতরের রুমগুলোতে লোকজ বিভিন্ন উপাদান দিয়ে সাজানো।

    সর্দারবাড়ির পুকুর পাড়ের এক জায়গা এমনভাবে সাজানো।

    আপনি যখন পুরো বাড়িতে হেঁটে বেড়াবেন তখন কল্পনা করবেন বাংলার কোন এক সম্ভ্রান্ত সামন্তের বাড়ির মধ্যে হেঁটে যাচ্ছেন। এই বুঝি এক কোণ থেকে হাঁক দিয়ে উঠলো কেউ।

    বাড়ির ভিতরটা যা সুন্দর না !

    বাড়ির প্রথম অংশের আঙ্গিনা ।

    বড় সর্দারবাড়িতে ৩০ মিনিট থাকতে দেয়, নিয়ম অনুযায়ী। কিন্তু এরা মনে হয় বিষয়টা খুব কেয়ার করে না। আবার সেদিন লোকজন কম ছিল। কয়েকজন বিদেশীকে দেখলাম গাইডসহ ঘুরে দেখছে। বাড়ির পেছনে আরেকটা পুকুর আছে। এই পুকুরের ঘাটে বসে দেখলাম পানকৌড়ির মাছ ধরার দৃশ্য। কি অদ্ভুত সুন্দর পরিবেশ!

    আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে পিলারে হেলান দিয়ে শুধু দেখতেই মন চায় ।

    বাড়ির বাইরের এক পাশে সবুজ আবহে সুন্দর ডেকোরেশন করা হয়েছে। ঐদিকে আবার ওয়াশরুমও আছে। ফ্রেশ হয়ে নিতে পারেন।

    ম্যালা দিন পর আমার ট্যুর গেটআপে। ব্যাখ্যা পরিশিষ্ট-২ এ।

    বড় সর্দারবাড়িতে একটু বেশি সময় কাটাই আমি। কারণ, বের হয়ে গেলে টিকেট ছাড়া আর ঢোকা যাবে না। পুকুর ঘাটে ছায়ায় একটু বসি। কল্পনা করি চার-পাঁচশ বছর আগে এই বাড়িটা কেমন ব্যস্ত থাকতো !

    পরিশিষ্টঃ

    ১। ২০২২ সালে ভারতের তামিলনাড়ুর মাহাবালিপুরমে সলো ট্রিপের প্ল্যান করছিলাম। লুকাইয়া গেইট দিয়া বাইর হওয়ার সময় মালাউয়ির জ্যানেট আর ইথিওপিয়ার বেটি আমারে পাকড়াও করে পিছু নিলো। এরপর এই ঘাউরা হিমুইদ্দিন কই থেইকা আইসা যোগ দিলো আমাদের সাথে। সে আসলে বুঝে নাই আমি কত বড় “সাইকো ট্রাভেলার”! প্রচন্ড গরমে আর অতিরিক্ত ঘামে যখন তার পায়ের মাসল রেসপন্স করা ছাইড়া দিছিলো সেই মূহুর্ত ভাবলে নিজেরে আজও অপরাধী লাগে।

    ২। ট্যুরে আমার গেটআপ প্রায় সময় একই থাকে। এগুলা ফ্যাশন না, প্রয়োজনীয়তা। অচেনা জায়গার ট্যুর কষ্টসাধ্য। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকতে পারে, যাতায়াতের মাধ্যম ভিন্ন হতে পারে, বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাথে এক বোতল পানি রাখা উচিত এবং নিয়মিত পান করা উচিত। হালকা একটা ব্যাকপ্যাকে ছাতা, পানির বোতল , এক প্যাকেট বিস্কিট আর প্রয়োজনীয় জিনিস রাখি। সানগ্লাস বাধ্যতামূলক, তীব্র রোদ আর ধুলা থেকে বাঁচার জন্য। মাথার চুলের সুরক্ষার জন্য ক্যাপ। আরামদায়ক পোশাক হিসেবে পোলো টি-শার্ট, জিন্স/গ্যাবার্ডিন; আর ঘন্টার পর ঘন্টা হাঁটার জন্য স্নিকার টাইপের কাপড়ের জুতা।

    পরের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন- সোনারগাঁওঃ প্রাচীন নগরীতে একদিন (পর্ব-২ঃ লোকশিল্প জাদুঘর, ১৬/০৫/২০২৫)

  • তেঁতুলতলার মিষ্টি (২৪/০৯/২০২৫)

    তেঁতুলতলার মিষ্টি (২৪/০৯/২০২৫)

    কোন জায়গায় ঘুরতে গেলে আমি চেষ্টা করি মোটামুটি সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখতে। আর চেষ্টা করি বিখ্যাত, ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে। যদি সম্ভব হয় ফেরার সময় পরিবারের জন্য সে খাবার নিয়েও আসি।

    ফরিদপুরের তেঁতুলতলার মিষ্টি কিন্তু খুব বিখ্যাত!

    ফরিদপুরে যাওয়ার আগেই ইন্টারনেট থেকে এখানকার মিষ্টির দোকানগুলোর ব্যাপারে একটা ধারণা নিয়ে গিয়েছিলাম। শিশু একাডেমির জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে শুনলাম মিষ্টির গুণগান। এক বসায় নাকি ৮-১০ টা মিষ্টি অনায়াসে খাওয়া যায়!

    প্রথম দিনের অডিশন শেষে সন্ধ্যায় শিশু একাডেমিতেই সুযোগ হয় মিষ্টি চেখে দেখার। এডিসি জেনারেল মিষ্টি এনে সবাইকে খাওয়ালেন। এগুলো স্পঞ্জ রসগোল্লা। তবে সাইজ অনেকটাই ছোট। ঢাকায় যে স্পঞ্জ রসগোল্লার সাথে আমি পরিচিত, এই মিষ্টি তার প্রায় অর্ধেক। তবে স্বাদে অতুলনীয়।

    অফিস থেকে ফিরে সার্কিট হাউসে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে পড়লাম মিষ্টির সন্ধানে। যে এলাকায় মিষ্টির দোকানগুলো অবস্থিত সে জায়গার নাম তেঁতুলতলা। সার্কিট হাউস থেকে বেশ কাছেই।

    জায়গাটা বেশ পরিচ্ছন্ন আর সুন্দরভাবে আলোকিত। আমি এই জায়গার ছবি তুলতে ভুলে গেছি। রাতে দেখতে দারুণ লাগে। বেশ কয়েকটা দোকান আছে এখানে। তার মধ্যে সবচেয়ে পুরনো দোকান হলো খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকান। এর সাথে মোল্লার মিষ্টির দোকানও ভালো। তবে সবচেয়ে পুরনো খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকানের বাহ্যিক অবস্থা বেশ জরাজীর্ণ। বাকি দোকানগুলো বেশ ঝকমকে। হয়তো এটা বিজনেস স্ট্র্যাটেজি হতে পারে। সবচেয়ে পুরনো হলেও এ দোকানেই সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে।

    আমি যাই রাত প্রায় ৯ টার‍ দিকে। খোকা মিয়ার দোকান বন্ধ হবার অবস্থা। এ দোকানে আর মিষ্টি খাওয়া হলো না। মোল্লার দোকানে গিয়ে বসলাম। অর্ডার দিলাম দুইটা রসগোল্লা, দুইটা রসমালাই আর একটা চমচম এর।

    মোল্লার দোকানের মিষ্টি। রসমালাই, রসগোল্লা আর চমচম।

    রসগোল্লার স্বাদ দারুন। রসমালাই ও অসাধারণ। এখানের রসমালাই এর সাইজ বেশ বড়, কুমিল্লার রসমালাই এর চেয়ে।  চমচমটা বেশি মিষ্টি, আমার তেমন ভালো লাগে নাই।

    তেঁতুলতলায় রসগোল্লা বিক্রি হয় পিস হিসেবে। প্রতি পিস ১২ টাকা। যে কয় পিস খাবেন তার দাম দিবেন। ছোট ছোট রসগোল্লা ৮-১০ টা খাওয়া কোন ব্যাপারই না।

    আমি তেঁতুলতলায় পরদিন (২৫/০৯/২০২৫ তারিখে) সন্ধ্যায় আবার যাই। এবার খোকা মিয়ার মিষ্টির দোকান খোলা, কিন্তু বেশ ভিড়। এর মধ্যে চেয়ার দখল করে অর্ডার করি মিষ্টি।

    বিখ্যাত খোকা মিয়ার দোকানের লাল রসগোল্লা। এগুলো চুলার উপর পাতিল থেকে সরাসরি প্লেটে সার্ভ করে।

    সাদা রসগোল্লা ২ টা খাওয়ার পর লাল রসগোল্লা খেলাম ২ টা। তবে লালটায় চিনির পরিমাণ বেশি। সাদাটাই খেতে ভালো। এখানে খাওয়ার সময় মজার অভিজ্ঞতা হয় আমার। চুলার উপর থেকে বড় চামচে করে একেবারে গরম রসগোল্লা ঢেলে দেয় বাটিতে। ধোঁয়া উঠা সে মিষ্টির স্বাদ কীভাবে বোঝাই !

    এভাবেই ঢেলে দেয় মিষ্টি।

    ১ কেজিতে মোটামুটি ২০ টা রসগোল্লা উঠে। আসলে বিক্রি করে তো পিস হিসেবে। আমি ঢাকায় ফেরার সময় খোকা মিয়ার দোকান থেকে ৬০ পিস (৩ কেজি) রসগোল্লা আর মোল্লার দোকান থেকে ৩ কেজি রসমালাই নিয়ে আসি।

    ফরিদপুর কেউ গেলে এই তেঁতুলতলার মিষ্টি খেতে ভুলবেন না !

  • মেঘনা নদীতে সরকারি দস্যুদলের এ কি কান্ড ! (দেখুন ভিডিওসহ)

    মেঘনা নদীতে সরকারি দস্যুদলের এ কি কান্ড ! (দেখুন ভিডিওসহ)

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-

    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজ সংলগ্ন মেঘনা নদীর অংশে ঘটে গিয়েছে এক ভয়ানক ঘটনা। সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তার বেশে একদল দস্যু হানা দেয় নদী ঘাট এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে।

    ঘটনার সূত্রপাত ঘটে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত নৌকা দখলের মাধ্যমে। নৌকার মাঝির সাথে আলাপচারিতার সময় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠেন নৌকার মাঝি। জানা যায় দস্যুরাণী তানিয়া (পূর্বে হাতুরে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত) নামে পরিচিত এক দস্যু ঘটনার দিন বিকালে মাঝির কাছে গিয়ে দরদভরা কন্ঠে “আমারে নিবা মাঝি লগে” বলে আকুতি জানান। কাশতে কাশতে আর চোখের পানি মুছতে মুছতে মাঝি বলেন, “পাষাণ একটা”।  নিরীহ, আলাভোলা মাঝিকে ফুসলিয়ে স্টাফ কলেজ সংলগ্ন ঘাটে নিয়ে আসেন দস্যু তানিয়া। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দস্যুদলের বাকি সদস্যরা হা রে রে রে আওয়াজে নৌকাটি দখলে নেয়। এ সময় ঘাটে থাকা দুদকের চার সদস্যকেও দস্যুদল অপহরণ করে বলে জানা যায়।

    এক ফ্রেমে উল্লসিত দস্যুদল

    নৌকায় উঠেই দস্যুদল মিষ্টিমুখের বদলে ঘাট-সংলগ্ন জাম গাছ থেকে লুট করা জাম দিয়ে জাম-মুখ করে। দস্যু ওয়াদুদ এই জাম-মুখ ইভেন্টের নেতৃত্ব দেন বলে গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    জাম-মুখ ইভেন্টে জাম খাওয়ানো হচ্ছে

    জিম্মি করা মাঝিকে দস্যুদল নৌকাসহ মাঝ নদীতে নিয়ে যায়। দস্যুদলের পৈশাচিক উল্লাসে মেঘনা নদীর সান্ডা, তিমি মাছ, হাঙ্গরসহ জলজ প্রাণীকূল দিক-বিদিক হারিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। এ সময় কয়েকজন দস্যুকে হাত দিয়ে অবৈধভাবে সান্ডা শিকার করতে দেখা যায়।

    অবৈধভাবে হাত দিয়ে সান্ডা ধরায় ব্যস্ত দস্যু

    দস্যুদল নৌকাটি নিকটবর্তী বসুরচর ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা দস্যু রেজা, দস্যু সিফাত এবং দস্যু জান্নাত ঘাটের চায়ের দোকানের দুধ-চায়ের গামলা লুট করে এবং ঘাটের নাম বসুরচর এর বদলে “পশুর চর” নামকরণ করে। নৌকার দস্যুদল ঘাটে পৌঁছালে তাদের সাথে ঘাটের দস্যু রেজা এবং দস্যু সিফাত যোগ দেয়।

    বসুর চর (নতুন “পশুর চর”) ঘাট

    এই নামটি এখন শুধুই স্মৃতি

    পিছিয়ে নেই নারী দস্যুরাওঃ

    বর্বরোচিত এই দস্যুতায় পিছিয়ে ছিল না নারী দস্যুরাও। এ অভিযানের এক পর্যায়ে নারী সদস্য  দস্যু তানিয়া, দস্যু জাবিন এবং দস্যু নাহার নৌকার গলুইটি দখল করে নিয়ে একের পর এক সেলফি-বাণ মারতে থাকে। উপর্যুপরি সেলফি-বাণের সময় তাদের তিন জনের শরীরের ভার সইতে না পেরে গলুইয়ের একাংশ দেবে (ডেবে) যায় বলে মাঝির বরাতে জানা গিয়েছে। এক পর্যায়ে দস্যুদলের নারীবাদি পুরুষ সদস্য দস্যু প্রত্যয় ফটোগ্রাফিতে যোগ দিলে তাদের উল্লাস চরমে পৌঁছায় এবং নৌকাটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়।

    নৌকার ভাঙা গলুইয়ের একটি বিরল ছবি

    দস্যুদল মাঝিকে বলপূর্বক নদীর পাড়ে নৌকাটি নোঙর করায় এবং পার্শ্ববর্তী ভুট্টা ক্ষেতে হানা দেয়। ন্যাক্কারজনক এই হামলায় তছনছ হয়ে যায় ভুট্টা ক্ষেত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দস্যু সফিউল জানান,

    “দেখেন, খাবার-দাবারের প্রতি আমার আগ্রহ বরাবরই কম। আমি আসলে এখানে এসেছি ভুট্টার বাম্পার ফলন দেখতে।”।

    এ সময় তার সুঠাম দেহের বিষয়ে প্রতিবেদক প্রশ্ন তুললে তিনি হেসে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান এবং “আপনার ব্যাপারটা আমি দেখবানি” বলে চোখ টিপে প্রতিবেদকের প্যান্টের পকেটে একটি আস্ত ভুট্টা গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

    ভুট্টা হনন

    ভুট্টা হননের আরেকটি মূহুর্ত

    চলছে ভুট্টা নিয়ে কামড়া-কামড়ি

    ভালো নেই গ্রামবাসীঃ

    দস্যুদলের অতর্কিত হামলায় বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে নদী পাড়ের গ্রামবাসীও। ক্রমাগত সেলফি-বাণ আর ফটোশুটের শিকার হয়েছে ঘটনার সময় বদনা হাতে টাট্টিখানায় গমনরত মজিদ চাচা আর নদীপাড়ে স্নানরত জরিনা চাচী। এ প্রতিবেদককে পেয়ে হু হু করে কেঁদে উঠেন দুইজনই। দস্যুদলের গোপন একটি হোয়াটসএপ গ্রুপ থেকে পাওয়া ফটো দেখানো হলে চাচা-চাচী দস্যু সিফাতকে চিহ্নিত করেন। তাদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আসে। দস্যু সিফাতের ছবি দেখিয়ে দুইজনই বলে উঠেন, “পাষাণ একটা”। এ সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

    দস্যু সিফাতের কাছে এ ঘৃণিত হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বুকে কিল মেরে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে তিনি বলেন,

    “দেখুন, আমি দস্যু হলেও অনেক ইথিক্যাল। লুটের ভুট্টা আমি খাই না। কিন্তু আমাদের বিশেষজ্ঞ দস্যু সফিকুল (পূর্বে হাতুরে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত) নিজ হাতে আমাকে ভুট্টা অফার করেন। সরল বিশ্বাসে আমি সে ভুট্টা খেয়ে ফেলি। এরপর থেকে আর কিছুই আমার স্মরণে নেই। ফটোশ্যুটের ঘটনা আমি ঘটালেও তা আমি সরল বিশ্বাসে করেছি।”

    স্মরণশক্তি কীভাবে ফিরে পেলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে দস্যু সিফাত “ফরেস্ট এর আপু” মাথায় বাঁশের বাড়ি মেরে স্মরণশক্তি ফিরিয়ে এনেছেন বলে জানান। এই “ফরেস্ট এর আপু”-টি কে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি রহস্যময় হাসি দিয়ে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান এবং পুনরায় স্মরণশক্তি হারানোর ভং ধরেন।

    ভুট্টা খেয়ে স্মরণশক্তি হারানোর বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্চছুক দস্যু সফিকুল (পূর্বে হাতুরে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত) জানান,

    “যে ভুট্টা আমি সাপ্লাই করি সেটা ‘অন্য’ গুণাবলি সম্পন্ন ভুট্টা। সান্ডার তেল যেখানে ব্যর্থ সেখানে আমার ভুট্টা ১০০% ধ্বনন্তরি।” তবে দস্যু সিফাতকে দেওয়া ভুট্টায় এমন কিছু ছিল না বলে তিনি দাবী করেন।

    ডাক্তারি সনদটি আসল কি না সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং এ প্রতিবেদকের পকেট থেকে দস্যু সফিউলের গছিয়ে দেওয়া ভুট্টাটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রতিবেদকের “অন্য কিছু” (প্রকাশযোগ্য নয়) ভেঙে ফেলারও হুমকি দেন তিনি।

    চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার অন্যতম সন্দেহভাজন দস্যু হারুন এবং দস্যু মাহবুবকে ভুট্টা চাবানোরত অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা কোন জবাব না দিয়ে আধ-খাওয়া ভুট্টা ফেলে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন।

    দস্যুদলের অনেকের পড়নে ছিল লাল জামা

    ঘটনার বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হলে জানানো হয়, যেহেতু ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে, সুতরাং এর দায় কর্তৃপক্ষের নয়। এগুলো দেখার ভার প্রশাসনের।

    গর্হিত এই দস্যুতার বিষয়ে নিকটস্থ থানার ওসিকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান,

    “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন মাঝি এবং চারজন ভুয়া দুদক অফিসারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি গলুই ভাঙা নৌকা, দুইটি রিং চিপসের প্যাকেট, কয়েকটি ভুট্টার খোসা, দুইটি জামের বিচি, তিনটি ছাগল এবং ছয়টি মুরগি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন দস্যুদলকে আটক করার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” এ সময় থানায় প্রতিবেদকের সামনে দিয়ে মাঝি এবং ভুয়া দুদক অফিসারদের রুমের দিকে সিদ্ধ ডিম ভর্তি পাতিল নিয়ে যেতে দেখা যায়। গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে ডিমগুলো নিকটস্থ ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের বিকেলের নাস্তায় পরিবেশিত সুস্বাদু-পুষ্টিকর-নষ্ট-পঁচা-দুর্গন্ধময় ডিম।

    রিলাক্সড মোডে কতিপয় দস্যু । কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না এদের নৃশংসতা!

    ঘটনার বিষয়ে দস্যু রেজার কাছে ফোনে জানতে চাওয়া হলে প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে তিনি ভুট্টা চাবাতে চাবাতে “আমি আসলে একটা জরুরি মিটিংয়ে আছি” বলে দ্রুত ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায় নি। এসএমএস এবং হোয়াটসএপে তাকে মেসেজ পাঠানো হলেও কোন সাড়া মেলেনি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার ফোনটি বন্ধ ছিল।

    (প্রতিবেদনে সবার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। গোপনীয়তার স্বার্থে সব ছবিতে মুখমন্ডল ব্লার করে দেওয়া হলো। এরপরও যদি ঘটনা এবং চরিত্র কারো সাথে মিলে যায় তাহলে তা মোটেও কাকতালীয় নয়। এর জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিবেদকই দায়ী।)

  • পিপিএম কোর্স-মুন্সীগঞ্জঃ সপ্তাহ-১

    পিপিএম কোর্স-মুন্সীগঞ্জঃ সপ্তাহ-১

    ১২.০৫.২০২৫

    পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা সংক্ষেপে পিপিএম নামের এই কোর্সটায় কীভাবে যেন সিলেক্টেড হয়ে গেলাম। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজে আবাসিক ব্যাচটাই বেছে নিলাম। তিন সপ্তাহের ট্রেনিং ১২ই মে থেকে ২৮ শে মে পর্যন্ত হবে।

    ১২ তারিখ সকালেই চলে গেলাম ঢাকার রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ তথা আইইবি-তে। মুন্সীগঞ্জে যাওয়ার জন্য এখান থেকে একটা বাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল আমাদের জন্য, এসি বাস। বাস ছাড়ার সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিট। বাস ছাড়ার আগে কেক, কফি আর পানির ব্যবস্থা ছিল।

    আমরা সকাল ৮ টা ২০ এর দিকে পৌঁছাই। মনোরম, প্রাকৃতিক পরিবেশ। তিন তলায় একটা রুমে আমি আর শফিউল ভাই উঠেছি। সুন্দর রুম, অ্যাটাচড বাথরুম, বারান্দা।

    আচ্ছা, এখান থেকে খাবার-দাবার নিয়ে শুরু করি। আমার এই সাইটটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কন্টেন্ট দরকার। তাই ভাবছি প্রতিদিনের খাবার নিয়েই লিখবো। আর যদি কোন বলার মতো বিষয় থাকে তাহলে বলবো।

    প্রথম দিন এখানে এসে রুমে উঠেই চলে গেলাম ডাইনিং-এ। সকালের নাস্তায় ছিল ভুনা খিচুড়ি, ডিম ভুনা, সবজি, সালাদ আর নাস্তার পর চা। সুস্বাদু রান্না।

    ৯ টা থেকে ক্লাস। ক্লাসের ফাঁকে টি ব্রেকে চিকেন ফ্রাই, আঙুর আর চা। এরপর লাঞ্চ ব্রেক। এখানে খাওয়ালো সাদা ভাত, কাচকি মাছ ভুনা, মুরগীর মাংস, সবজি আর ডাল। লাঞ্চের পর আবার ক্লাস। ক্লাস শুরু হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম তাড়ানোর জন্য ডেস্কে দিয়ে গেল কফি। বিকাল ৫ টার পর ক্লাস শেষে গেলাম আবার ডাইনিং-এ। বিকালের নাস্তা দিল ২ পিস জেলি মাখানো পাউরুটি আর কলা, সাথে চা।

    রাত সাড়ে আটটার দিকে গেলাম রাতের খাবারের জন্য। দিল পরোটা, চিকেন তন্দুরি, ডিম ভাজি, বুটের ডাল ভুনা (খাশি/মুরগির হাড্ডি পাওয়া গেছে) আর সালাদ।

    এই ছিল প্রথম দিনের খানাপিনা।

    ১৩.০৫.২০২৫

    রাতে ঘুম ভালোই হলো, কিন্তু সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেল।

    রেডি হয়ে ডাইনিং-এ গেলাম। আজকের নাস্তা পরোটা, সুজির হালুয়া, ডিম ভাজি, সবজি। সাথে চা তো আছেই।

    ১১টার দিকে ব্রেক-এ দিলো একটা সিংগারা আর আপেল। সাথে চা।

    দুপুরে দিলো সাদা ভাতের সাথে খাসির মাংস, সবজি, ডাল।

    বিকালের নাস্তা একটা পাটিসাপটা পিঠা আর কলা। চা আছে।

    রাতে দিলো সাদা ভাতের সাথে টেংরা মাছ ভুনা, করল্লা ভাজি, টমেটোর চাটনি আর ডাল। মাছ ভাল্লাগে না 🙁

    ১৪.০৫.২০২৫

    সকালের নাস্তায় সুজির হালুয়া মিস গেল কেন ? কেন ?? কেন ??? (কান্নার ইমু হইবে, ভেউ ভেউ করে কান্না)

    ওয়েল, সুজির হালুয়া মিস গেছে, কিন্তু যা দিছে মন্দ না। পরোটা, সবজি, ডিম। চলে আর কি।

    পেছনে গিয়ে বামদিকে ডাইনিং, ডানে রিসেপশন। আর সোজা গেলে আমাদের হোস্টেল।

    কৃষ্ণচূড়া। সুন্দর না ?

    স্যার ক্লাস ভালো নেয়।

    I got a pocket got a pocket full of sunshine …

    Take me away…

    দুপুরে দিছে মেগা খানা পোলাও, স্পেশাল সবজি, রোস্ট, মাছ ফ্রাই, ডিমের কোরমা। কোপা কারবার। মাছ ভাজিটা কিন্তুক সেই হইছে !

    বিকালে দিলো মোগলাই আর কলা।

    প্রতি বেলায় চা আর দুপুরে ডেস্কেই কফি মিস নাই।

    বিকালে একটু হাঁটাহাঁটি, ব্যস, এইটুকুই।

    রাতে দিছে পাবদা মাছ। সাথে সবজি, ডাল। এক আপু বোম্বাই মরিচের আচার দিছিলো, জিহ্বায় একটু লাগাইয়া আর আগাইতে পারি নাই ভয়ে। ডান পাশের চাপা জ্বলে গেছিলো।

    কালকে সপ্তাহের শেষ ক্লাস।

  • পাঠক সমাবেশে (কাঁটাবন) ঝটিকা সফর

    পাঠক সমাবেশে (কাঁটাবন) ঝটিকা সফর

    ০৫.০৫.২০২৫

    মটরসাইকেলটা নিয়ে গিয়েছিলাম কাঁটাবন পাখির বাজারে, আমার পোষা ইন্ডিয়ান রিংনেক টিয়ার জন্য খাবার কিনতে। এ রাস্তায় আসা হয় কম। আগেই চোখে পড়েছিল পাঠক সমাবেশের লাইব্রেরিটা। শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের পাশে পাঠক সমাবেশের একটা বড় লাইব্রেরি আছে। আমার সেখানেও যাওয়া হয় নি। কাঁটাবনের লাইব্রেরিটা সামনে পড়ায় ভাবলাম একটা ঢুঁ মারি।

    ধানমন্ডিতে বেঙ্গল বইয়ের দোকানে কয়েকবার গিয়েছি। বাজার মনে হয়েছে। বইয়ের দোকানে খাবার আর আড্ডাবাজির সুযোগ করে দিলে বই মূল্যহীন হয়ে পড়ে বলে আমি মনে করি। বাতিঘরও আজকাল খুব ব্যস্ত মনে হয় আমার কাছে।

    কাঁটাবনে পাঠক সমাবেশে যখন যাই তখন দোকানটা মোটামুটি ফাঁকা। খুব হাল্কা, ঠান্ডা পিয়ানো মিউজিক দিয়ে রেখেছে।

    অসাধারণ একটা আবহ!

    কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম, সময় থাকলে দেখে নিন।

    ঢুকলেই এই ভিউটা পাবেন। সোজা সামনে একেবারে শেষে রুমের ঠিক মাঝে একটা ডায়াস আছে।

    এরকম সোফা আছে বসার জন্য, বাইরে কাঁটাবন পাখির মার্কেট দেখা যাচ্ছে ।

    জানালার পাশে এক সোফায় বসেছিলাম, সেখান থেকে তোলা।

    একটা বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টাচ্ছিলাম। ফ্রান্স ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সাথে ইউরোপের অনেক তথ্য শেয়ার করেছেন লেখক।

    বইয়ের একটা পাতা ।

    ঠিক মাঝখানে একটা ডায়াস আছে ।

    মাঝের সেই ডায়াসে বসে সামনের ভিউ এমন আসে।

    মাঝের ডায়াসের ঠিক পাশেই কর্ণারটা এভাবে সাজানো।

    কর্নারে থাকা সোফায় বসে মাঝের ভিউটা এমন।

    চেনা যায় ? সোফায় বসা আমি।

    লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে নীলক্ষেতে কিছু কাজ সেরে ভাবলাম ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে একটু ঢুঁ মারি। আইসক্রিমওয়ালার থেকে এটা নিলাম। ফেসবুকে বেশ রিভিউ দেখেছিলাম। কিন্তু দাম বেশি মনে হয়েছে, ১০০ টাকা ! ৬০ টাকার মধ্যে হলে ভালো হতো।

    “The man who goes alone can start today; but he who travels with another must wait till that other is ready.”
    — Henry David Thoreau

    (Thoreau, a transcendentalist writer and philosopher, often celebrated solitude, nature, and self-reliance in his works—especially in Walden.)

    আজ এ পর্যন্তই থাক। 🙂

  • কখন বুঝবেন যে আপনার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সময় হয়েছে ?

    কখন বুঝবেন যে আপনার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সময় হয়েছে ?

    “আপনার জায়গা ছেড়ে যাওয়ার সময় হয়েছে কি না তা কীভাবে বুঝবেন ?”

    উত্তর কী হবে ? কিছুক্ষণ ভাবুন, তারপর বাকিটা পড়ুন।

    এই প্রশ্নের সহজ উত্তর বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব। তবে একটা ওয়েবসাইটে আমি এর একটা অদ্ভুত উত্তর পেয়েছিলাম। উত্তরটা এত ভালো লেগেছিল যে এই উত্তরকেই উপরের প্রশ্নের সর্বোত্তম জবাব বলে আমি মনে করি।

    ওয়েবসাইটে যা লেখা ছিল তা মোটামুটি নিচের মতো,

    “যখন আপনার মনে হবে ঘরের মধ্যে আপনিই সবচেয়ে বুদ্ধিমান, তখন বুঝবেন যে আপনার এই জায়গা ছেড়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।”

    এবার আসি ব্যাখ্যায়। ওয়েবসাইটে ঐ লাইনের কোন ব্যাখ্যা দেওয়া ছিল না, আমি নিজেই এর একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছি। আপনারা মিলিয়ে নিতে পারেন।

    ধরা যাক, আপনি কোন মিটিংয়ে বসেছেন। মিটিংয়ে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা শুনতে শুনতে  আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে আলোচনায় যারা নিজ মতামত দিচ্ছেন তাদের চেয়ে আপনি বিষয়টা ভালো বুঝেন ?

     যদি আপনার মনে হয় যে আপনি ঐ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো বুঝেন, তাহলে বুঝবেন যে ঐ রুমে আপনার থাকার কোন প্রয়োজন নেই।

    কেন প্রয়োজন নেই ? কারণ রুমে যে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সে বিষয়ে আপনি অলরেডি সবকিছুই শিখে ফেলেছেন।

    প্রতিষ্ঠানে একজন কর্মী শুধু প্রতিষ্ঠানকে দেয়ই না, সে প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক কিছুই নেয়ও। আমি বলছি পয়সা-পাত্তির বাইরের জিনিস, যেগুলো অক্ষয় এবং সবচেয়ে মূল্যবান সেগুলোর কথা। একজন কর্মী ম্যানপাওয়ার ম্যানেজমেন্ট, টাইম ম্যানেজমেন্ট, ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট শিখে, নিজের দক্ষতা বাড়ায়, কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ায়। অফিসের পরিবেশটা বুঝে নিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করতে শিখে। কীভাবে নিজের গুরুত্ব অন্যদের মাঝে বাড়াতে হয় সেটা শিখে।

    আমি রুমের উদাহরণ দিয়েই ব্যাখ্যা করলাম। এমন অভিজ্ঞতা যখন কম-বেশি পুরো প্রতিষ্ঠান জুড়েই আপনার হয় তখন আপনি জায়গা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করুন। কারণ আপনি নিজেকে পূর্ণ করে নিয়েছেন আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে। এখন আর এখান থেকে আপনার নেওয়ার কিছুই নেই। সময় হয়েছে জায়গা ত্যাগ করার।

    আপনি হয়তো বলবেন যে পুরো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বুদ্ধিমান হয়ে কীভাবে জায়গা ছাড়বেন! আসলে এখানে পুরো প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠান অনেক বড়। আপনি সবকিছুতে এক্সপার্ট হতে পারবেন না। আপনি শুধু বিবেচনায় নিবেন আপনার ঘাটতি ছিল কোন জায়গাগুলোতে, এবং এগুলোর উন্নয়ন কতটা করতে পেরেছেন। যদি মনে হয় যতটুকু নেওয়ার আপনি নিয়েছেন, তাহলে ভাবনা শুরু করুন।

    কেন সবচেয়ে দক্ষ হবার পরপরই ছেড়ে দেবেন, তাই না?

    আমার ব্যাখ্যাটাই বলি। যখন আপনি নিজেকে কোন বিষয়ে সবচেয়ে দক্ষ মনে করবেন, এর অর্থ হতে পারে আপনি আসলেই দক্ষ, অথবা আপনি নিজেকে যতটা দক্ষ মনে করছেন আসলে আপনি তা না। কিন্তু যেটাই হোক না কেন, আপনি মনস্তাত্বিকভাবে নিজের উপর কনফিডেন্ট। এমন পরিবেশে প্রায়ই আপনি দেখবেন যে আপনার দক্ষতা বা বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহারের জন্য যথার্থ সুযোগ আপনি পাবেন না। অর্থাৎ সবচেয়ে দক্ষ হবার পরেও (আই মিন নিজেকে দক্ষ ভাবার পরেও) আপনি দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছেন না বা আপনাকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তখন আপনার মনে হবে রুমের মধ্যে আপনিই সবচেয়ে বুদ্ধিমান, কিন্তু আপনার নিজেরও আর ইচ্ছা হবে না নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর।

    ঠিক এই সময়টাকেই আপনি মার্ক করবেন। নিজেকে প্রশ্ন করবেন, “রুমের মধ্যে যে টপিকটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন বিষয়ে আমিই কি সবচেয়ে ভালো বুঝি? অন্যদের চেয়ে আমার ধারণাটা কি নিখুঁত ? আমি কি পারবো আমার পরিকল্পনা মতো কাজটা তুলে নিয়ে আসতে ?”

    উপরের লেখাগুলো পড়ে আপনার এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা।

    দক্ষ হওয়া এত সহজ না। আপনি সব বিষয়ে দক্ষ হতে পারবেন না। তার প্রয়োজনও নেই। আপনার কারিগরী জ্ঞান থাকলে অন্য বিষয় শিখে নিন। টিমওয়ার্ক/ প্ল্যানিং/ অধীনস্তদের পরিচালনা/ সময় ব্যবস্থাপনা – কত কিছু আছে ! আপনি নিজে কারিগরী ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ হলেও প্রতিষ্ঠানে আপনি অন্যান্য অনেক কিছু শেখার প্রতি জোর দিবেন। যতদিন নিজের এফোর্ট দিয়ে সেবা করতে পারছেন সেবা করুন। তারপর একদিন যখন মনে হবে “রুমের মধ্যে আমিই সবচেয়ে বুদ্ধিমান”, তখন বুঝবেন যে এই জায়গায় এখন আর আপনার দেওয়ার কিছু নেই, আপনার নেওয়ারও কিছু নেই।

    আপনার এখন সময় হয়েছে জায়গা ছেড়ে যাওয়ার।

    সবশেষে ক্রিকেট লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকারের একটা কথা বলি, যা তিনি ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের ঘোষণা দেওয়ার দিন বলেছিলেন,

    “চলে যাওয়ার জন্য সর্বোত্তম সময় সেটাই, যখন সবাই জিজ্ঞেস করবে কেন চলে যাচ্ছ !”

    শচীন কিন্তু বেশ ভালো ফর্মে থেকেও বিদায় নিয়েছিলেন, মর্যাদার সাথেই।

    ধন্যবাদ।