নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজ সংলগ্ন মেঘনা নদীর অংশে ঘটে গিয়েছে এক ভয়ানক ঘটনা। সম্প্রতি সরকারি কর্মকর্তার বেশে একদল দস্যু হানা দেয় নদী ঘাট এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত নৌকা দখলের মাধ্যমে। নৌকার মাঝির সাথে আলাপচারিতার সময় ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ডুকরে কেঁদে উঠেন নৌকার মাঝি। জানা যায় দস্যুরাণী তানিয়া (পূর্বে হাতুরে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত) নামে পরিচিত এক দস্যু ঘটনার দিন বিকালে মাঝির কাছে গিয়ে দরদভরা কন্ঠে “আমারে নিবা মাঝি লগে” বলে আকুতি জানান। কাশতে কাশতে আর চোখের পানি মুছতে মুছতে মাঝি বলেন, “পাষাণ একটা”। নিরীহ, আলাভোলা মাঝিকে ফুসলিয়ে স্টাফ কলেজ সংলগ্ন ঘাটে নিয়ে আসেন দস্যু তানিয়া। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা দস্যুদলের বাকি সদস্যরা হা রে রে রে আওয়াজে নৌকাটি দখলে নেয়। এ সময় ঘাটে থাকা দুদকের চার সদস্যকেও দস্যুদল অপহরণ করে বলে জানা যায়।

এক ফ্রেমে উল্লসিত দস্যুদল
নৌকায় উঠেই দস্যুদল মিষ্টিমুখের বদলে ঘাট-সংলগ্ন জাম গাছ থেকে লুট করা জাম দিয়ে জাম-মুখ করে। দস্যু ওয়াদুদ এই জাম-মুখ ইভেন্টের নেতৃত্ব দেন বলে গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে।

জাম-মুখ ইভেন্টে জাম খাওয়ানো হচ্ছে
জিম্মি করা মাঝিকে দস্যুদল নৌকাসহ মাঝ নদীতে নিয়ে যায়। দস্যুদলের পৈশাচিক উল্লাসে মেঘনা নদীর সান্ডা, তিমি মাছ, হাঙ্গরসহ জলজ প্রাণীকূল দিক-বিদিক হারিয়ে পালিয়ে যেতে থাকে। এ সময় কয়েকজন দস্যুকে হাত দিয়ে অবৈধভাবে সান্ডা শিকার করতে দেখা যায়।

অবৈধভাবে হাত দিয়ে সান্ডা ধরায় ব্যস্ত দস্যু
দস্যুদল নৌকাটি নিকটবর্তী বসুরচর ঘাটে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা দস্যু রেজা, দস্যু সিফাত এবং দস্যু জান্নাত ঘাটের চায়ের দোকানের দুধ-চায়ের গামলা লুট করে এবং ঘাটের নাম বসুরচর এর বদলে “পশুর চর” নামকরণ করে। নৌকার দস্যুদল ঘাটে পৌঁছালে তাদের সাথে ঘাটের দস্যু রেজা এবং দস্যু সিফাত যোগ দেয়।

বসুর চর (নতুন “পশুর চর”) ঘাট

এই নামটি এখন শুধুই স্মৃতি
পিছিয়ে নেই নারী দস্যুরাওঃ
বর্বরোচিত এই দস্যুতায় পিছিয়ে ছিল না নারী দস্যুরাও। এ অভিযানের এক পর্যায়ে নারী সদস্য দস্যু তানিয়া, দস্যু জাবিন এবং দস্যু নাহার নৌকার গলুইটি দখল করে নিয়ে একের পর এক সেলফি-বাণ মারতে থাকে। উপর্যুপরি সেলফি-বাণের সময় তাদের তিন জনের শরীরের ভার সইতে না পেরে গলুইয়ের একাংশ দেবে (ডেবে) যায় বলে মাঝির বরাতে জানা গিয়েছে। এক পর্যায়ে দস্যুদলের নারীবাদি পুরুষ সদস্য দস্যু প্রত্যয় ফটোগ্রাফিতে যোগ দিলে তাদের উল্লাস চরমে পৌঁছায় এবং নৌকাটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়।

নৌকার ভাঙা গলুইয়ের একটি বিরল ছবি
দস্যুদল মাঝিকে বলপূর্বক নদীর পাড়ে নৌকাটি নোঙর করায় এবং পার্শ্ববর্তী ভুট্টা ক্ষেতে হানা দেয়। ন্যাক্কারজনক এই হামলায় তছনছ হয়ে যায় ভুট্টা ক্ষেত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দস্যু সফিউল জানান,
“দেখেন, খাবার-দাবারের প্রতি আমার আগ্রহ বরাবরই কম। আমি আসলে এখানে এসেছি ভুট্টার বাম্পার ফলন দেখতে।”।
এ সময় তার সুঠাম দেহের বিষয়ে প্রতিবেদক প্রশ্ন তুললে তিনি হেসে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান এবং “আপনার ব্যাপারটা আমি দেখবানি” বলে চোখ টিপে প্রতিবেদকের প্যান্টের পকেটে একটি আস্ত ভুট্টা গছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ভুট্টা হনন

ভুট্টা হননের আরেকটি মূহুর্ত

চলছে ভুট্টা নিয়ে কামড়া-কামড়ি
ভালো নেই গ্রামবাসীঃ
দস্যুদলের অতর্কিত হামলায় বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে নদী পাড়ের গ্রামবাসীও। ক্রমাগত সেলফি-বাণ আর ফটোশুটের শিকার হয়েছে ঘটনার সময় বদনা হাতে টাট্টিখানায় গমনরত মজিদ চাচা আর নদীপাড়ে স্নানরত জরিনা চাচী। এ প্রতিবেদককে পেয়ে হু হু করে কেঁদে উঠেন দুইজনই। দস্যুদলের গোপন একটি হোয়াটসএপ গ্রুপ থেকে পাওয়া ফটো দেখানো হলে চাচা-চাচী দস্যু সিফাতকে চিহ্নিত করেন। তাদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আসে। দস্যু সিফাতের ছবি দেখিয়ে দুইজনই বলে উঠেন, “পাষাণ একটা”। এ সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দস্যু সিফাতের কাছে এ ঘৃণিত হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে বুকে কিল মেরে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে তিনি বলেন,
“দেখুন, আমি দস্যু হলেও অনেক ইথিক্যাল। লুটের ভুট্টা আমি খাই না। কিন্তু আমাদের বিশেষজ্ঞ দস্যু সফিকুল (পূর্বে হাতুরে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত) নিজ হাতে আমাকে ভুট্টা অফার করেন। সরল বিশ্বাসে আমি সে ভুট্টা খেয়ে ফেলি। এরপর থেকে আর কিছুই আমার স্মরণে নেই। ফটোশ্যুটের ঘটনা আমি ঘটালেও তা আমি সরল বিশ্বাসে করেছি।”
স্মরণশক্তি কীভাবে ফিরে পেলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে দস্যু সিফাত “ফরেস্ট এর আপু” মাথায় বাঁশের বাড়ি মেরে স্মরণশক্তি ফিরিয়ে এনেছেন বলে জানান। এই “ফরেস্ট এর আপু”-টি কে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি রহস্যময় হাসি দিয়ে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান এবং পুনরায় স্মরণশক্তি হারানোর ভং ধরেন।
ভুট্টা খেয়ে স্মরণশক্তি হারানোর বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্চছুক দস্যু সফিকুল (পূর্বে হাতুরে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত) জানান,
“যে ভুট্টা আমি সাপ্লাই করি সেটা ‘অন্য’ গুণাবলি সম্পন্ন ভুট্টা। সান্ডার তেল যেখানে ব্যর্থ সেখানে আমার ভুট্টা ১০০% ধ্বনন্তরি।” তবে দস্যু সিফাতকে দেওয়া ভুট্টায় এমন কিছু ছিল না বলে তিনি দাবী করেন।
ডাক্তারি সনদটি আসল কি না সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং এ প্রতিবেদকের পকেট থেকে দস্যু সফিউলের গছিয়ে দেওয়া ভুট্টাটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রতিবেদকের “অন্য কিছু” (প্রকাশযোগ্য নয়) ভেঙে ফেলারও হুমকি দেন তিনি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার অন্যতম সন্দেহভাজন দস্যু হারুন এবং দস্যু মাহবুবকে ভুট্টা চাবানোরত অবস্থায় দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা কোন জবাব না দিয়ে আধ-খাওয়া ভুট্টা ফেলে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন।

দস্যুদলের অনেকের পড়নে ছিল লাল জামা
ঘটনার বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হলে জানানো হয়, যেহেতু ঘটনাটি ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে, সুতরাং এর দায় কর্তৃপক্ষের নয়। এগুলো দেখার ভার প্রশাসনের।
গর্হিত এই দস্যুতার বিষয়ে নিকটস্থ থানার ওসিকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান,
“এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন মাঝি এবং চারজন ভুয়া দুদক অফিসারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি গলুই ভাঙা নৌকা, দুইটি রিং চিপসের প্যাকেট, কয়েকটি ভুট্টার খোসা, দুইটি জামের বিচি, তিনটি ছাগল এবং ছয়টি মুরগি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন দস্যুদলকে আটক করার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” এ সময় থানায় প্রতিবেদকের সামনে দিয়ে মাঝি এবং ভুয়া দুদক অফিসারদের রুমের দিকে সিদ্ধ ডিম ভর্তি পাতিল নিয়ে যেতে দেখা যায়। গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে ডিমগুলো নিকটস্থ ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজের বিকেলের নাস্তায় পরিবেশিত সুস্বাদু-পুষ্টিকর-নষ্ট-পঁচা-দুর্গন্ধময় ডিম।

রিলাক্সড মোডে কতিপয় দস্যু । কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না এদের নৃশংসতা!
ঘটনার বিষয়ে দস্যু রেজার কাছে ফোনে জানতে চাওয়া হলে প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে তিনি ভুট্টা চাবাতে চাবাতে “আমি আসলে একটা জরুরি মিটিংয়ে আছি” বলে দ্রুত ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে তাকে আর ফোনে পাওয়া যায় নি। এসএমএস এবং হোয়াটসএপে তাকে মেসেজ পাঠানো হলেও কোন সাড়া মেলেনি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার ফোনটি বন্ধ ছিল।
(প্রতিবেদনে সবার ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। গোপনীয়তার স্বার্থে সব ছবিতে মুখমন্ডল ব্লার করে দেওয়া হলো। এরপরও যদি ঘটনা এবং চরিত্র কারো সাথে মিলে যায় তাহলে তা মোটেও কাকতালীয় নয়। এর জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিবেদকই দায়ী।)

Leave a Reply